আজঃ শনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

অতিরিক্ত শ্রম দিলেও মজুরি কম পান চা-শ্রমিকরা

প্রকাশিতঃ March 8th, 2022, 1:52 pm |


রাজনগর বার্তা রিপোর্ট : সারা দেশে ১৬৬টি চা-বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯২টি। এ শিল্পের শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি নারী। চা-পাতা তোলার প্রধান কাজটিই করেন নারী শ্রমিকেরা। অধিক শ্রম দিলেও সে অনুযায়ী মজুরি পান না এমন অভিযোগ নারী শ্রমিকদের।

রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন তাঁরা। অতিরিক্ত শ্রম দিলেও সে তুলনায় মজুরি পান না বলে অভিযোগ তাঁদের। ফলে পর্যাপ্ত খাদ্য, চিকিৎসাসহ মৌলিক নানা অধিকার নিশ্চিত হয় না।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে চা-জনগোষ্ঠীর সদস্য সাড়ে সাত লাখ। কর্মরত মোট চা-শ্রমিক স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী চা-শ্রমিক।

জেলার চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা সূত্রে জানা যায়, তাঁরা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা কাজ করেন। আর পুরুষ শ্রমিকেরা করেন তিন-চার ঘণ্টা। সে অনুযায়ী তাঁরা মজুরি পান না। শ্রম দিলেও মজুরির টাকা নিজেরা তুলতে পারেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নারী শ্রমিকদের পক্ষে তাঁদের স্বামী বা পরিবারের পুরুষ প্রতিনিধিই মজুরির টাকা তোলেন।

চা-বাগানের শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০ কেজির অধিক চা-পাতা তুললে প্রতি কেজির বিপরীতে একজন শ্রমিককে পাঁচ টাকা করে বাড়তি দেওয়ার কথা। তবে এ ক্ষেত্রে নারীদের কম দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।

চা-শ্রমিক সন্তান ও পরিবেশকর্মী কাজল হাজরা বলেন, পুরুষ শ্রমিকেরা পদোন্নতি পেয়ে ‘সর্দার’ কিংবা ‘বাবু’ হলেও নারী শ্রমিকদের সাধারণত পদোন্নতি হয় না। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রেও বঞ্চনার শিকার হন নারী শ্রমিকেরা।

জেলা চা-কন্যা নারী সংগঠনের সভাপতি খাইরুন আক্তার বলেন, বাগানে নারীরা বেশি পরিশ্রম দেন অথচ মজুরি পান পুরুষের সমান। আবার অতিরিক্ত পাতা তুলেও নির্ধারিত বোনাস পান না। পাশাপাশি রয়েছে অল্প বয়সে বিয়ে ও অসচেতনতায় জরায়ু মুখে ক্যান্সারসহ নানা ধরনের রোগ।

চা-শ্রমিক অধিকারকর্মী মোহন রবিদাস বলেন, ‘অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে নারী শ্রমিকদের কাজ করতে হয়। কর্মক্ষেত্রে পয়োনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির অভাবে তাঁরা অনেক কঠিন রোগের শিকার হন। চা-বাগানগুলোতে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার মানের অবস্থা খুবই নাজুক।’

চা-জনগোষ্ঠীর সন্তান পরিবেশকর্মী মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, অন্যান্য নারীর চেয়ে চা-গানের নারীরা পিছিয়ে। নারী দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে চা-শ্রমিক নিয়ে আলোচনা হলেও বছরের বাকি সময়ে মনে থাকে
না কেউ।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রামভজন কৈরি বলেন, বেশি ভাতা পাওয়ারা জন্য গর্ভাবস্থায় চা-বাগানের নারীরা বাড়তি পরিশ্রম করেন। এতে মা ও সন্তান দুজনই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস হলেও চা-নারী শ্রমিকেরা পান তিন মাস। এদিকে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নারীরা পদোন্নতি পান না।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দ বলেন, চা-জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও নেই। এ ধারণা অনুযায়ী দেশে চা-জনগোষ্ঠীর সদস্য সাড়ে সাত লাখ। সারা দেশে কর্মরত চা-শ্রমিক স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী শ্রমিক।

চা-সংসদের সদস্য তাহসিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে এ শিল্প অনেক এগিয়েছে। আমাদের অনেক ঘাটতি আছে। আগামীতে ঘাটতি অনেক কমে আসবে।’

সৌজন্য: আজকের পত্রিকা


এই বিভাগের আরো খবর

মতামত দিন

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
আক্তার হোসেন সাগর

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মোঃ শহীদ বকস

প্রধান উপদেষ্টাঃ
সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন

উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যঃ
আকলু মিয়া চৌধুরী
এম. রহমান লতিফ

সম্পাদক কর্তৃক সেন্ট্রাল রোড, রাজনগর, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত।
মোবাইলঃ ০১৭১৫-৪০৫১০৪
Email: [email protected] | [email protected] (সম্পাদক)


Developed by - Great IT
error: Content is protected !!