আজঃ শনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

সিলেটে টাকা দিয়ে মিলছে না চার্জার ফ্যান! বেড়েছে জেনারেটরেরও চাহিদা

প্রকাশিতঃ July 20th, 2022, 8:26 pm |


রাজনগর বার্তা রিপোর্ট : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সারা দেশে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে সিলেটে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় সিলেটে হঠাৎ করে বেড়েছে চার্জার ফ্যান, চার্জার লাইট ও জেনারেটরের চাহিদা।

সিলেট নগরীতে এসব পণ্য বিক্রির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। ক্রেতাদের অভিযোগ- বিদ্যুৎ সংকটে চার্জার ফ্যান, লাইট ও জেনারেটরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন- পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে তারাও একটু বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। এক ব্যবসায়ী বললেন- বর্তমানে নগদ টাকায়ও মিলছে না চার্জার ফ্যান।

বুধবার (২০ জুলাই) বিকেলে সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ সবুজ বিপণীসহ নগরীর কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের দোকান ঘুরে দেখা যায়- শুধু চার্জার ফ্যান বা লাইট নয়, চাহিদা বেড়েছে জেনারেটরেরও। বিক্রির পাশাপাশি অনেকেই মেরামত করিয়ে নিচ্ছেন ঘরে পড়ে থাকা পুরনো জেনারেটর।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুদিন থেকে সিলেট নগরীতে হঠাৎ বেড়েছে চার্জার লাইট, ফ্যান ও জেনারেটরের চাহিদা। প্রায় প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড়। এছাড়াও ব্যস্ত সময় পার করছেন জেনারেটরের মেরামতকারীরা।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা থেকে সবুজ বিপণীতে চার্জার ফ্যান কিনতে আসা শাপলা বেগম সিলেটভিউ-কে বলেন, আমাদের এলাকায় কয়েকদিন থেকে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ঘরে বৃদ্ধ মা ও বাচ্চা আছে। তারা গরমে খুব কষ্ট পাচ্ছেন। তাই চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি। কিন্তু যে ফ্যানের দাম জেনে এসেছি ২৫ থেকে ২৭ শ’ টাকা, সেই ফ্যানের দাম এখন চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সঙ্গে তো এত টাকা নিয়ে আসিনি, তাই মনে হয় আজ আর ফ্যান কেনা হবে না।

কাদির নামের এক ক্রেতা বলেন, দুইমাস আগে যে পাকিস্তানি ফ্যান ৫ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, সেটি এখন ৬ হাজার টাকার উপরে। এমনভাবে ফ্যানের দাম বাড়ায় আমরা ক্রেতাসাধারণরা বিপাকে পড়েছি।

ওরিয়েন্টাল শপিং সিটির মোবারক নামের এক ব্যবসায়ী বলেন- লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জার ফ্যান ও চার্জার লাইটের চাহিদা বেড়েছে। ফলে নগদ টাকা দিয়েও পাইকারি বাজারে চার্জার ফ্যান পাচ্ছি না।

আগের তুলনায় ফ্যানের দাম প্রায় অর্ধেক বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন- আগে যে ফ্যান ২৬শ টাকায় বিক্রি করতাম এখন সেট ৩২-৩৩ শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ আগের তুলনায় ফ্যানের দাম বেড়েছে। আর প্রতিটি চার্জার লাইটের দাম বেড়েছে ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত।

সবুজ বিপণীর পাইকারি ইলেক্ট্রনিক্সসামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রাফি ইলেকট্রনিক। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক শাকিল আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন- এসব পণ্য মূলতঃ ঢাকাকেন্দ্রিক। আমাদের সিলেটে বিদেশ থেকে মালামাল আমদানি করা হয় না। ফলে ঢাকার পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে আমাদের পণ্য ক্রয় করতে হয়। আর এসব সামগ্রী সিলেটে নিয়ে আসতে পণ্য পরিবহন খরচ লাগে। তাছাড়া গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এজন্য আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য। তবে আমরা সামান্য লাভেই পাইকারি বা খুচরো বিক্রি করি।

এদিকে, লোডশেডিং আর বন্যার প্রভাবে সিলেটে জেনারেটরের চাহিদাও বেড়েছে। অনেকেই নতুন জেনারেটর ক্রয় করছেন, আবার অনেকেই পুরাতন জেনারেটর মেরামত করিয়ে নিচ্ছেন। ফলে জেনারেটর বিক্রয়কারী ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানেও ভিড় বেড়েছে। এ সুযোগে নতুন জেনারেটর ক্রয় করতে ও অকেজো জেনারেটর সচল করতে অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। তারা বলছেন- সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের পকেট কাটছেন।

নগরীর বারুতখানা পয়েন্ট সংলগ্ন পপুলার অটো ওয়ার্কশপ-এর জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ মাহফুজ আলী (রাহেল) সিলেটভিউ-কে বলেন, আসলে লোডশেডিং আর ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জেনারেটরের দাম ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমরা আমাদের ক্রেতাদের কাছ থেকে পূর্বের দামে জেনারেটর বিক্রি করছি। এছাড়া যারা অকেজো জেনারেটর মেরামত করতে এসেছেন তাদের কাছ থেকে অনেক সময় আগের তুলনায় কম টাকা মজুরি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের স্টকে থাকা জেনারেটর প্রায় শেষ। আর মাত্র কয়েকটি জেনারেটর রয়েছে। তবে কিছু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিচ্ছেন- এটাও সত্য। এসব ঠিক নয়।


এই বিভাগের আরো খবর

মতামত দিন

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
আক্তার হোসেন সাগর

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মোঃ শহীদ বকস

প্রধান উপদেষ্টাঃ
সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন

উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যঃ
আকলু মিয়া চৌধুরী
এম. রহমান লতিফ

সম্পাদক কর্তৃক সেন্ট্রাল রোড, রাজনগর, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত।
মোবাইলঃ ০১৭১৫-৪০৫১০৪
Email: [email protected] | [email protected] (সম্পাদক)


Developed by - Great IT
error: Content is protected !!